| বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে ভিপি নুরের অফিসে আগুন, দোকান পুড়ে ছাই | নির্বাচন ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-02-2026 ইং
  • 2142697 বার পঠিত
পটুয়াখালীতে ভিপি নুরের অফিসে আগুন, দোকান পুড়ে ছাই | নির্বাচন ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: ভিপি নুরের অফিসে আগুন

পটুয়াখালীতে ভিপি নুরের নির্বাচনি অফিসে আগুন, দগ্ধ দুটি দোকান: উত্তপ্ত দশমিনা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দশমিনা (পটুয়াখালী): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নির্বাচনি অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেবল অফিসটিই নয়, পাশের একটি ওষুধের দোকান ও একটি মুদি দোকানও ভস্মীভূত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে আলিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। অফিসটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা’র বাড়ির সামনে অবস্থিত ছিল।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও স্থানীয় শঙ্কা

এ ঘটনায় নুরুল হক নুরের সমর্থকরা সরাসরি স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেছেন। নুরের সমর্থকদের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার হারুন হাওলাদারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে হাসান মামুনের অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি নুরের সমর্থকদের নিজস্ব ‘সাজানো নাটক’ যা অন্যদের ওপর দায় চাপানোর জন্য করা হয়েছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ জানিয়েছেন, "ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের শুরু থেকে এই অঞ্চলের মানুষ বারবার ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই করেছে।

  • ১৯০৫-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলে রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা বা পিকেটিং ছিল সাধারণ প্রতিবাদের অংশ।

  • ১৯৭০: ঐতিহাসিক সত্তরের নির্বাচনেও এদেশের মানুষ শাসকগোষ্ঠীর নানা বাধার মুখে পড়েছিল, কিন্তু ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছিল।

  • ১৯৯০ ও ২০২৪: নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ছিল একটি সংঘাতমুক্ত ও নির্ভয় নির্বাচনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

  • ২০২৬: বর্তমান ২০২৬ সালের নির্বাচনে পটুয়াখালীর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া গণতন্ত্রের সেই দীর্ঘ লড়াই আজও এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। নুরের সমর্থকদের দাবি, তারা এমন এক বাংলাদেশ চেয়েছেন যেখানে পোস্টার লাগানো বা অফিস করার কারণে কারও দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হবে না।

প্রচারণার শেষ দিনের দেশব্যাপী চিত্র

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রচারণার শেষ দিনে পটুয়াখালীর এই উত্তেজনার পাশাপাশি সারা দেশের চিত্র ছিল নিম্নরূপ:

  • তারেক রহমান: তিনি তার নির্বাচনি প্রচারণা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরেছেন।

  • মির্জা ফখরুল: বিএনপি মহাসচিব দাবি করেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দেশে দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ তৈরি হবে।

  • ইসি ও ইইউ: নির্বাচন কমিশন দ্রুত ফল প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ পর্যবেক্ষক মাঠে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।


বিশ্লেষণ প্রতিবেদন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের মধ্যকার এই লড়াই কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক আধিপত্যের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। ভোটারদের মধ্যে এখন প্রধান শঙ্কা হলো ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে। ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটিই—শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ভোটটি দেওয়া। পটুয়াখালীর এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে ভোটার উপস্থিতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: গণঅধিকার পরিষদ মিডিয়া সেল, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং দশমিনা থানা পুলিশ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency